ভারতে বন্ধ হতে পারে WhatsApp? মোদী সরকারের প্রস্তাব নাকচ করে কোম্পানি বলল বড় কথা

শুধু গোটা বিশ্বে নয়, আমাদের ভারতেও WhatsApp অ্যাপটির তুমুল ব্যবহার – বিগত কয়েক বছরে ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং প্ল্যাটফর্মটির কারণেই এদেশের মানুষ সাধারণ টেক্সট মেসেজিংয়ের বিকল্পটিকে কার্যত ভুলেছেন।

শুধু গোটা বিশ্বে নয়, আমাদের ভারতেও WhatsApp অ্যাপটির তুমুল ব্যবহার – বিগত কয়েক বছরে ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং প্ল্যাটফর্মটির কারণেই এদেশের মানুষ সাধারণ টেক্সট মেসেজিংয়ের বিকল্পটিকে কার্যত ভুলেছেন। এই মুহূর্তে WhatsApp-এর ভারতে ৫০০ মিলিয়নেরও বেশি অ্যাক্টিভ ইউজার রয়েছে, যাদের জন্য তারা প্রায়ই নতুন ফিচার নিয়ে আসে। কিন্তু এত কিছু সত্ত্বেও, মাঝেমধ্যেই শোনা যায় যে ভারতে প্ল্যাটফর্মটি নিষিদ্ধ হতে পারে কিংবা কেন্দ্র সরকার এর ওপর রাশ টানতে চাইছে। সেক্ষেত্রে এই এপ্রিলের শেষদিকে সম্প্রতি আবারও এমন একটি বিষয় নিয়ে জলঘোলা শুরু হয়েছে, আর এবার খোদ WhatsApp-ই বলেছে যে সংস্থাটি ভারতে তাদের অ্যাপ বন্ধ করতে পারে।

 

আদালতকে অ্যাপ বন্ধ করার বলেছে WhatsApp

সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপ, সরাসরি দিল্লি হাইকোর্টকে একটি মামলার শুনানির সময় বলেছে যে প্রয়োজনে তারা এদেশে পরিষেবা বন্ধ করে দেবে। তবে এরকম বলার পেছনে আসল কারণটা জানলে প্ল্যাটফর্মটির ইউজার হিসেবে আপনার গর্ব হতে পারে! এমনিতে মেটা (Meta) মালিকানাধীন সংস্থাটি তার ইউজারদের গোপনীয়তার সাথে যে কোনোরকম আপোষ করতে চায়না, সে কথা তারা বারবারই বলে আসছে। আর এখনও তারা এই প্রেক্ষিতেই অ্যাপ বন্ধের মতো বড় কথা বলেছে – আদালতকে হোয়াটসঅ্যাপ স্পষ্ট বলেছে যে, যদি ভারতে কোনোভাবে তাদের মেসেজের এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন (end-to-end encryption of messages) প্রোটেকশন সিস্টেম ভাঙতে হয়, তবে তারা এখানে নিজের অ্যাপ বন্ধ করে দেবে।

 

এক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপের প্রতিনিধিত্বকারী অ্যাডভোকেট তেজস কারিয়ার বক্তব্য সবাইকে অবাক করে দিয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মনমোহন এবং বিচারপতি মনমীত প্রীতম সিং অরোরার বেঞ্চের সামনে কারিয়া বলেছেন যে, প্ল্যাটফর্মের এনক্রিপশন ভাঙতে বলা হলে হোয়াটসঅ্যাপ বিদায় নেবে। আপনাদের জানিয়ে রাখি, এই সমস্ত কথা আদালতে উঠেছে তথ্য প্রযুক্তি বিধি ২০২১-এর ৪(২) ধারার বিপক্ষে দায়ের করা পিটিশনের শুনানির সময়। এই ধারাটিকে মেটাই চ্যালেঞ্জ করেছিল এবং এখন আদালত, কোম্পানির দিকটি বিচার করে দেখছে।

 

প্রকৃতপক্ষে, উল্লিখিত প্রযুক্তি বিধিটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে কোনো মেসেজের উৎস অর্থাৎ প্রথমবার কে সেটি শেয়ার করছে, সেই তথ্য কোম্পানির কাছে রাখার কথা বলে যাতে প্রয়োজনে এই বিষয়ে সময়মতো আপডেট পাওয়া যায়। এমনকি সরকার পক্ষের আইনজীবী কীর্তিমান সিং বলেছেন – ভারত, হোয়াটসঅ্যাপের জন্য সবচেয়ে বড় বাজার যেখানে তাদের কয়েকশো মিলিয়ন ব্যবহারকারী রয়েছে। তাই এমন পরিস্থিতিতে কোম্পানির মেসেজ সংক্রান্ত রেকর্ড থাকাটা বাধ্যতামূলক, বিশেষ করে আজকের টালমাটাল সময়ে।

 

এমন দাবি বিশ্বের অন্য কোনো দেশ করেনি

এই প্রসঙ্গে দিল্লি হাইকোর্টের বেঞ্চ, তেজস কারিয়াকে জিজ্ঞাসা করেছে যে বিশ্বের কোনো দেশে হোয়াটসঅ্যাপের এনক্রিপশন সিস্টেম সম্পর্কে এমন দাবি করা হয়েছে কিনা। জবাবে তিনি স্পষ্টই জানিয়েছেন যে, কোম্পানির কাছে এই দাবি ভারত ছাড়া অন্য কোনো দেশ এমনকি ব্রাজিলও করেনি। সেক্ষেত্রে এই বিষয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে কারিয়া আদালতে বলেন, যদি হোয়াটসঅ্যাপ এই নিয়ম মেনে নেয় তাহলে তাদের অনেক বছর ধরে লাখ লাখ মেসেজ সংরক্ষণ করতে হবে, যা চাট্টিখানি ব্যাপার নয়। সবমিলিয়ে কোথাকার জল কোথায় গড়ায়, এখন সেটাই দেখার!

 

End-to-end encryption কী?

 

হোয়াটসঅ্যাপ তার ইউজারদের প্রাইভেসি ও সিকিউরিটির জন্য মেসেজ, মিডিয়া এবং এখন চ্যাট ব্যাকআপের ক্ষেত্রেও এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনের সুবিধা দেয়। এতে করে ইউজার ব্যথিত অন্য কেউ এমনকি খোদ কোম্পানিও সেইসব অ্যাক্সেস করতে পারেনা। ফলে গোপন কথা থেকে যায় গোপনেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker